রুকইয়ার পরিচয়

রুকইয়ার শাব্দিক অর্থ ফু দেওয়া, ঝাড়ফুক করা। তবে পারিভাষিক অর্থে শব্দটিকে আমরা ফু দেয়া অর্থে ব্যবহার করি না; বরং ‘পাঠ করা’ অর্থে ব্যবহার করি। অর্থাৎ পেইশান্ট নিজে কুরআন পাঠ করবে কিংবা অন্য কেউ পেইশান্টের কাছে পাঠ করবে । ব্যক্তি যখন শারীরিক, মানসিক, আত্মিক কিংবা জি¦ন, যাদু ও বদনযর ইত্যাদি রোগ থেকে আরোগ্যের প্রত্যাশায় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল হয়ে নিজে কুরআন পাঠ করে কিংবা অন্য কেউ তাকে পাঠ করে শোনায়, একে আমরা শারয়ী রুকিয়া বলি। শরইয়ী রুকিয়ার মাঝে শুধু কুরআন নয় হাদীসে বর্ণিত দুআসমূহও অন্তর্ভূক্ত। রুকিয়ার শাব্দিক অর্থ বিবেচনায় রাক্বি রুকিয়ার পরে পেইশান্টকে ঝাড়-ফুক করতে পারে আবার ঝাড়ফুক না করলেও সমস্যা নেই। পারিভাষায় রুকিয়াকে আমরা যে অর্থে ব্যবহার করছি, সে অর্থে শব্দটির প্রয়োগ আমরা হাদীস থেকেই নিয়েছি; এবং শরয়ী রুকিয়ার সমস্ত পাঠও আমরা হাদীস থেকেই লাভ করেছি। আবু সাইদ খুদর্রী (রা) এর হাদসিটি দেখুন - “জিবরীল আমিন রাসুল (স)এর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ! আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? রাসুল (স) বলেন, হ্যাঁ, জিবরীল আমিন বললেন, بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ ، اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ অর্থাৎ আল্লাহর নামে আমি আপনাকে রুকিয়া করছি, যে সমস্ত বিষয় আপনাকে কষ্ট দেয় তা থেকে; সমস্ত মানুষ ও হিংসুকের হিংসার অনিষ্ট থেকে; আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করুন; আল্লাহর নামে আপনাকে রুকিয়া করছি।” (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ) . যে ঝাড়ফুক রুকিয়া শারয়ী হবে না ----------------------------------- রুকিয়া মানে ঝাড়ফুক হলেও ইসলামে কেবল সে সব রুকিয়ারই অনুমতি আছে, যেটা সরাসরি কুরআন সুন্নাহ হতে গৃহিত। যদি কুরআন-সুন্নাহ ছাড়া অন্য কিছু পাঠ করে রুকিয়া করা হয়, তা কখনোই শরিয়তসম্মত রুকিয়া বলে গোন্য হবে না। যেমন কুফুরি কালাম বলা কিংবা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সাহায্য চাওয়া। তবে হ্যাঁ... সরাসরি আল্লাহর কছে যে কোন ভাষায় আরোগ্যের দুআ করে, রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে ফু দিলে কোন সমস্যা নেই। এটা জায়েজ ক্যাটাগরির রুকিয়া। রাসুল (স) শুধু সেই রুকিয়ারই অনুমতি দিয়েছেন, যেখানে কোন শিরক নেই। রাসুল (স) বলেন, لا بأس بالرقي إذا لم يكن فيه شرك ঝাড়-ফুকে কোন সমস্যা নেই যদি তাতে শিরক না থাকে। এ ছাড়া সমস্ত রুকিয়া ও তাবিজ-তাওলিয়াকে তিনি নিষিদ্ধ করেন। রাসুল (স) বলেন- إن الرقي و التمائم والتولية شرك অর্থাৎ ‘নিঃশন্দেহে ঝাড়ফুক, তাবিজ ও তাওলিয়া শিরক।’ (বুখারী ও মুসলিম)