একজন উমার (র)

একজন উমার (র)

লিখেছেনঃ আরজু আহমাদ ভাই

ইসলামকে দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করতে আল্লাহ্‌ সুবহানু তা’আলা যে কয়জন মানুষের খিদমত গ্রহণ করেছেন সবচে’ বেশি উমার তাঁর অন্যতম। অধিকাংশ নিরক্ষরবাসীর আরবে তিনি ছিলেন লিখতে ও পড়তে পারা একজন।

তাঁর রাষ্ট্র শাসন ছিল মুসলমানের রাষ্ট্র শাসনব্যবস্থা কেমন হবে এর প্রায়োগিক উদাহরণ। আল্লাহ্‌র ভয় সে রাষ্ট্রের যাবতীয় কাঠামোকে করেছিল ইস্পাত দৃঢ়। তিনি শক্তিশালী সিভিল সার্ভিস গড়ে তুলেছিলেন।

উমার রা. তাঁর সময়ে কাউকে সিভিল সার্ভিসে নিয়োগদান করলে একটি শপথনামা লিখাতেন এবং জনগণের একটি দলকে এর প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী রাখতেন। তাতে উল্লেখ থাকত সেই ব্যক্তি তাঁর দায়িত্বকালে-

১। তিনি এমন বাহন ব্যবহার করবেন না, যা জাঁকজমক পূর্ণ এবং অধিক মূল্যবান হয়।

২। তিনি বিলাসবহুল আহার থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন।

৩। মূল্যবান পোশাক পরিধান থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন।

৪। কখনোই কোনও নাগরিকের প্রয়োজন পূর্ণ না করে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করবেন না।

৫। নির্ধারিত ভাতা ছাড়া ভিন্ন উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন না।

এমনকি কোনও আমলা ব্যবসা বা ভিন্ন কোনও বৈধ উপায়ে অর্থোপার্জন করবেন সে সুযোগও রহিত ছিল। কারণ স্বভাবতই প্রশাসক নিজে ক্ষমতা প্রয়োগ না করলেও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় সে অন্যদের থেকে অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারে।

কর্মকর্তাদের উপর গোয়েন্দাবৃত্তির জন্য তিনি পৃথক বাহিনী তৈরি করেছিলেন। সমস্ত প্রতিবেদন তাঁর নিকট উত্থাপিত হত। একবার হারিছ ইবনে কা'ব ইবনে ওয়াহাব নামীয় এক আমলার অর্থনৈতিক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হলে উমার রা. তাঁকে ডেকে এর উৎস জিজ্ঞাসা করেন।

জবাবে সে জানায়- এটা তাঁর ব্যবসায় বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত অর্থ। উমার রা. তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন, "আমরা তোমাকে ব্যবসা করতে নিয়োগ করি নি।" এরপর ব্যবসার যাবতীয় লাভ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করে নেন।

তাঁর শাসনামলে একবার তিনি উতবাহ ইবনে ফারক্বাদকে আজারবাইজানের গভর্নর হিসেবে প্রেরণ করলেন। লোকেরা তাঁকে স্থানীয় কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করলো। তিনি এর স্বদে এত মুগ্ধ হন যে স্থির করেন উমার রা. এর নিকট এই খাবার হাদিয়া প্রদানের।

মদিনায় উমার রা. এর সামনে এ খাবার পরিবেশন করলে তিনি জানতে চান কে এই খাবার কোথা থেকে এনেছেন। বাহক উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট যাবতীয় তথ্য প্রদান করেন। উমার রা. জানতে চান, 'একই খাবার কী আজারবাইজানের সকল লোক তাঁদের বাড়িতে খাওয়ার সামর্থ্য রাখে?'

বাহক জানান, 'না, সকলের সে সামর্থ্য নেই'। উমার রা. এই খাবার ফেরত নিতে বলেন। আর গভর্নরকে লিখে পাঠান, 'এই সম্পদ তো তোমার পিতা বা মাতার সম্পদ নয়। এটা নিশ্চিত করো, জনগণ যে খাবার গ্রহণ করে, তাঁর থেকে অধিক যেন তোমার ঘরে তৈরি না হয়।"

এ বিষয়গুলো ছিল শাসনযন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত সামরিক ও বেসামরিক সকল আমলাদের জন্য বাধ্যতামূলক। সাধারণ জনগণ এই দায় থেকে মুক্ত ছিল। রাষ্ট্রের নাগরিকদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ব্যাক্তিগণই কেবল তখন সিভিল সার্ভিসে যেতেন।

উমার রা. দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন কেমন হওয়া উচিত জনসেবার সিভিল সার্ভিস। আমাদের সিভিল সার্ভিস যদি তা হত তবে ক'জন বিসিএস পরীক্ষা দিত সে নিয়ে ভাবতে গেলেও শঙ্কিত হই! স্তম্ভিত হই সেকালের আর আমাদের মধ্যকার ত্যাগ ও ভোগের হিসেব দাঁড় করালে।

ইসলামের আরেকটা সৌন্দর্য হচ্ছে, নেতৃত্বের সুবাধে শাসকের পরিজনেরা রাজনৈতিক সুবিধা নেবে সে সুযোগ কখনোই নাই। এই নীতির আদর্শ দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন উমার রা.। তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ একবার কিছু উট ক্রয় করেন এবং তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত 'আল-হিমা' নামক চারণভূমিতে ছেড়ে দেন।

উটগুলো যখন স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠে আব্দুল্লাহ রা. তা বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে যান। উমার রা. বাজার পরিদর্শনে এসে এই উটগুলো দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করেন এই উটগুলো কার? আব্দুল্লাহ জবাব দেন। উমার রা. উটগুলো স্বমন্ধে বিস্তারিত জানতে চান।

তিনি বলেন, এই উটগুলো ক্রয়ের পর অন্য নাগরিকদের মত তিনিও সরকারি চারণভূমিতে এগুলোকে চরতে দেন। উমার রা. এবার বললেন,

"আর লোকেরা বলতে লাগলো এর দেখভাল করো, পানি ও তৃণভোজের সুযোগ দাও। এসব আমিরুল মুমিনিনের পুত্রের উট। এ হয় না- তুমি বরং তোমার মূলধন রাখো এবং যাবতীয় লাভ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করো।"

পৃথক এক ঘটনা উমার রা. এঁর সময়কার রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা মো'আইক্বিব বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন উমার রা. ভরদুপুরে আমাকে ডেকে পাঠান।

আমি দেখতে পেলাম তিনি তাঁর পুত্র আসিমের নিকট থেকে অর্থ দাবি করছেন (এই দাবি ছিল সরকারি দাবি বলে পরিগণিত)। আমি উপস্থিত হওয়ার পর তিনি বললেন,

"তুমি জানো এ কী করেছে? সে সম্ভবত ইরাকের লোকদের বলেছে, আমি খলিফার পুত্র, আমাকে কিছু প্রদান করুন। লোকেরা মূল্যবান তৈজস, রৌপ্য, দামী তলোয়ার এবং নানাবিধ জিনিস তাঁকে দিয়েছে।"

আসিম বললেন, "আমি কী করে এটা করতে পারি? আমি তো কেবল আমার পরিচিত কিছু লোকের সঙ্গে সাক্ষাত করেছি মাত্র। তারা হাদিয়া স্বরূপ আমাকে এইসব প্রদান করেছেন।" উমার রা. এর কোনও উত্তর না দিয়ে বললেন, "মো'আইক্বিব এই সব জিনিস রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করে নাও।"

আসলে প্রকৃত ঘটনা ছিল, আসিম রা. তাদের কাছে কিছুই চান নি। বরং তাঁর বন্ধুরা তাঁকে স্বপ্রণোদিত হয়ে এইসব উপহার দিয়েছিল। সে সময়কার পারস্যে সুন্দর তৈজসপত্র এবং ভালো তলোয়ার তৈরি হত।

কিন্তু উমার রা. এর মনে আশঙ্কা ছিল, লোকেরা যদি আসিমকে খলিফার পুত্র ভেবে এ হাদিয়া প্রদান করে থাকে! তাই তিনি সবকিছু রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করে দেন।

আরেকবার তাঁর পুত্র ও প্রখ্যাত ফতোয়াদানকারী সাহাবি আবদুল্লাহ বিন উমার রা. পারস্যের জালুলা (যা ছিল সদ্য বিজিত) অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার দিরহামে কিছু জিনিস ক্রয় করেন। উমার রা. তাঁকে বললেন,

"যদি কাউকে আগুনের মুখে দাঁড় করিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়, সে কি তা প্রদান করবে না? অবশ্যই করবে। তুমি যখন এসব ক্রয় করেছো লোকেরা ভেবেছে তুমি আল্লাহ্‌র রাসুলের সাহাবি এবং খলিফার পুত্র।

সুতরাং তাঁরা তোমাকে অল্পমূল্যেই হয়ত এ জিনিস প্রদান করে দিয়েছে। সুতরাং এ পণ্য রাষ্ট্রের জিম্মায় বিক্রয় করা হবে। বিক্রিলব্ধ অর্থ থেকে কেবল তুমি এক দিরহামের মূলধনের বিপরীতে এক দিরহাম লাভ করবে”।

সেমতে, ঐ পণ্য বিক্রয় করা হয়, ৪ লাখ দিরহামে। আবদুল্লাহকে দেওয়া হয় ৮০ হাজার দিরহাম। আর বাকি অর্থ সা'দ বিন ওয়াক্কাস রা. কাছে প্রেরণ করা হয় পণ্যের আদি বিক্রেতাদের তা ফেরত দিতে।

এরকম অসংখ্য ঘটনা আছে, যেখানে সেইসব স্বর্ণযুগের শাসকেরা স্থাপন করেছেন আদর্শ রাষ্ট্র ব্যবস্থার ভিত্তি। পাবলিক প্রোপার্টি ব্যবহারে, ব্যবসায় যে সততা ছিল, সাবধানতা ছিল সেসবের ছিটেফোঁটাও যদি থাকত একালে!

আমাদের নেতারা, সামরিক, বেসামরিক আমলা এবং তাদের স্বজনেরা কী ভাবেন এসব নিয়ে? শুধু কি নেতা, ছোট খাটো দায়িত্বের ক্ষেত্রেও তো সুবিধা নিতে কতজনকেই দেখি আমরা!

একবার এক ব্যক্তি উমার রা. এর আদালতে অভিযোগ জানালেন আলী রা. এর ব্যাপারে। উমার রা. তাঁকে আদালতে তলব করলেন। উপস্থিত হওয়ার পর বললেন, 'ও আবুল হাসান, প্রতিপক্ষের পাশে বসুন।'

আলী রা. এর চেহারায় এমন পরিবর্তন ঘটলো, যে তা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। তিনি ছিলেন প্রভাবশালী রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা। তবে তিনি মুখে কিছুই বললেন না।

উমার রা. বিচারকার্য সমাপ্তির পর বললেন, 'ও আবুল হাসান, আপনি কি এ জন্য ক্ষুব্ধ হয়েছেন যে, আমি আপনার এবং অভিযোগকারী উভয়ের প্রতি একই আচরণ করেছি বলে?'

আলী রা. বললেন,' আমিরুল মুমিনিন, আপনি একই আচরণ করেন নি। আমাকে আমার উপনামে ডেকে অধিক সম্মান প্রদর্শন করেছেন অথচ তাঁকে ডেকেছেন তাঁর নিজের নামে।'

উমার রা. তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন এবং বলতে লাগলেন, 'আল্লাহ্‌ যেন আমাকে এমন কোনও ভূমিতে কখনো বাস না করান, যেখানে আবুল হাসান (আলী রা.) নেই।'

এত ছোট ব্যাপারে ভুল ধরিয়ে দেওয়ায় কি বিপুল খুশি হয়েছিলেন তিনি। আমাদের তো অবস্থা এই, বড়ো বড়ো ভুলগুলোকেও আমরা মানতে পারি না।

এই ছিল আমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা। অথচ আমাদের অবস্থা তো এই যে, আমরা নিজেদের নামিয়ে দিয়েছি পতনেরও সর্বনিম্ন স্তরে! আমাদের মধ্য থেকে খোদাভীরুতা দূর হয়ে গেছে।

আখিরাতের ভয় আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছে বলেই আজ আমরা ডুবে আছি যাবতীয় পাপে। আখিরাতের ভয় তাঁকে কতটা ভীত করত, নিচের ঘটনাটা এঁর একটা উদাহরণ।

একবার উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর কাছে এক বেদুইন আসলো। বলল- "উমার, আমার মেয়ে ও তাদের মাকে সাহায্য করার জন্য আমাকে কিছু দাও, আল্লাহ্‌ উত্তম প্রতিদান দিবেন। নতুবা তুমি আল্লাহ্‌র ব্যাপারে ভীত থাকো।”

উমার বললেন, " ধরো ,যদি আমি কিছু না দিই তোমাকে, তাহলে কী হবে, বেদুইন?" বেদুঈন বললেন, "আল্লাহর কসম, তোমাকে এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌ জিজ্ঞাসা করবেন। আর এর উত্তরের উপরই নির্ভর করবে তুমি জান্নাতি হবে নাকি থেকে যাবে জাহান্নামে।”

উমার রা. এ কথা শুনে কাঁদতে শুরু করলেন। এমনকি কাঁদতে কাঁদতে তাঁর দাড়ি ভিজে গেল। তিনি বেদুইনকে পর্যাপ্ত সম্পদ প্রদান করলেন। নিজের গায়ের জামাটিও খুলে দিয়ে দিলেন। তারপর লোকটির দিকে তাকিয়ে বললেন, আল্লাহ্‌র কসম এই জামাটি ব্যতীত আমার আর কোনও জামাও নেই।”

অথচ উমার রা. ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি তাঁর শাসনামলে কোনও অবিচার করেন নি, কোনও অনাচার করেন নি। অথচ আল্লাহর ভয়ে তিনি বলতেন, "যদি একটি মেষশাবকও ফুরাতের তীরে অনাহারে মারা যায়, তাহলেও আমি ভয় করি, মহান আল্লাহ এর জন্য হিসেব চাইতে পারেন।"

এই উমার রা. শাসন করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ দুই সাম্রাজ্য সাসানিদ সম্রাজ্যের পুরোটাই আর বাইজেন্টাইন সম্রাজের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভূমি। অর্থাৎ দুনিয়ার ইতিহাসে অন্যতম সর্ববৃহৎ এক রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক ছিলেন এই মানুষটি।

তাঁর সম্পর্কে সবচে’ যথার্থ উক্তিটি করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা., তিনি বলেন, ‘উমারের ইসলামে প্রবেশ ছিল বিরাট বিজয়, তাঁর বদলে যাওয়াটা ছিল বিশালতম জয়, তাঁর নেতৃত্ব ছিল উম্মতের জন্য আল্লাহ্‌র রহম’।

আমাদের জন্য সেই বদলে যাবার সুযোগ রয়েছে। যদি বদলে যাই, পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করি তবে আমাদের রব আমাদেরও জাতির জন্য তাঁর রহম হিসেবে কবুল করবেন।

আসুন ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করি, সুন্নাহকে পরিপূর্ণভাবে আঁকড়ে ধরি। আর বদলে যাই, বদলে দিই। উমার হোক আমাদের আদর্শ। আইকন।

যে ইসলাম একজন উদ্ধত পেশিশক্তি নির্ভর মানুষকে উপনীত করেছে এইরকম একজন মানুষে- সে ইসলামকে আঁকড়ে কেন ধরি না আমরা? কোথায় সফলতা খুঁজি আমরা? পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ ভিন্ন আর কোনও সফলতা নাই। ও গরিব আর ধনীর মহামহিম রব, আমাদের মধ্যে কাউকে উমার হিসেবে কবুল করে নিন। যে শাসক হয়ে আপনার ভয়ে কায়েম করবে ন্যায়। যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আপনার ভয় দেখিয়ে নিজের অধিকার আদায় করে নিতে পারবে মলিন পোশাকের এক গ্রাম্য পুরুষ। উমার রা. ছিলেন আশারায়ে মুবাশশারার অন্যতম। অগ্রগণ্য সেই দশ সাহাবাকে নিয়ে পোস্টের মধ্যে এটা পঞ্চম। এই পোস্টের আগের দুটো পোস্ট পরেই আছে আরও চারজনের সম্পর্কে চারটি পৃথক পোস্ট। আগ্রহীজন পাঠ করতে পারেন। বাকিদের নিয়েও ইনশাআল্লাহ্‌ লেখা হবে। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আজমাইন। আল্লাহ্‌ তাঁদের প্রত্যেকের মর্যাদা উঁচু করুন। আমিন। উমার, আমার উমার, আমাদের উমার।


ক্যাটাগরি
আর্কাইভ